দ্য মেইল বিডি | আন্তর্জাতিক
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তা নিচ্ছে সৌদি আরব। এরই মধ্যে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে প্রতিরক্ষামূলক আকাশ টহলে যুক্তরাজ্যের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা এসেছে। পাশাপাশি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করার উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তায়েফ ও ইয়ানবু শহরের দিকে যাওয়ার সময় প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও সামনে আসে। সৌদি কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ শহর, বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাজ্যের সহায়তা
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান সৌদি আকাশসীমায় প্রতিরক্ষামূলক টহল দেবে, যাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মতো আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করা যায়। এ ছাড়া পরিবহন বিমান, সামরিক উপদেষ্টা এবং সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তাও বাড়ানো হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ঘোষিত এই ভূমিকা মূলত প্রতিরক্ষামূলক। দেশটি জানিয়েছে, এসব যুদ্ধবিমান হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিবর্তে সৌদি শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় কাজ করবে।
তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরোধব্যবস্থা
গত ৫ অক্টোবর সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা জোটের কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি হুতি হামলার জবাবে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হয়। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জোটের ঘোষণায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় সামরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত মোতায়েনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কতসংখ্যক সেনা বা কোন কোন অস্ত্র ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
হুতিদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার অভিযান
শুধু হামলা প্রতিহত করেই থেমে নেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। গত ১০ অক্টোবর জোটের পক্ষ থেকে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়। জোটের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ১৩৬টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক ও সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন অংশ লক্ষ্যবস্তু ছিল।
এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর জোটের মুখপাত্র জানান, হুতিদের অস্ত্রের গুদাম, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। এগুলো হুতিদের ভবিষ্যৎ হামলার সক্ষমতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ।
সামনে কী হতে পারে?
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সৌদি আরবের কৌশলে তিনটি বিষয় স্পষ্ট—নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা দিয়ে তাৎক্ষণিক হামলা ঠেকানো, যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদের সহায়তায় প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার অবকাঠামো দুর্বল করা।
তবে এসব পদক্ষেপের পরও হামলার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বরং সৌদি শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


