নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, ঐতিহাসিক টঙ্ক আন্দোলনের মহানায়ক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা কমরেড মণি সিংহের বর্ণাঢ্য জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শুরু হতে যাচ্ছে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘কমরেড মণি সিংহ মেলা’। আগামী ৩১ ডিসেম্বর (২০২৬) থেকে শুরু হয়ে এই মেলা চলবে ৬ জানুয়ারি (২০২৭) পর্যন্ত। আসন্ন উৎসবকে ঘিরে দুর্গাপুরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ, যার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে মতবিনিময় সভা।
সময়ের পরিক্রমায় এই মেলা এখন আর কেবল একজন জাতীয় নেতার স্মরণোৎসবে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পরিণত হয়েছে স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অপূর্ব মিলনমেলায়। মণি সিংহ কেবল একটি নাম নয়, তিনি এদেশের মেহনতি মানুষের অধিকার আদায় ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অবিস্মরণীয় প্রতীক। তাঁর সেই জীবনদর্শন, কৃষকের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের ইতিহাসকে প্রজন্মের পর জন্মে ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করা হয়।
আসন্ন মেলাকে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে দুর্গাপুরের কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা উদযাপন কমিটির আয়োজনে এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ডা. দিবালোক সিংহ। সিপিবি উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা, মাঠ প্রস্তুতকরণ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রচার-প্রচারণা এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দলমত নির্বিশেষে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল এ সভার অন্যতম আকর্ষণ। সভায় বক্তব্য রাখেন মেলা উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক অজয় সাহা ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সভাপতি এম রফিকুল ইসলাম রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার এবং সিপিবি উপজেলা কমিটির সভাপতি আলকাছ উদ্দীন মীর। এছাড়া সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে মতামত তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট মানেশ সাহা, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন এবং কবি বিদ্যুৎ সরকার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, প্রবীণ সাংবাদিক নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, সাবেক প্রধান শিক্ষক বীরেশ্বর চক্রবর্ত্তী, অ্যাডভোকেট সজয় চক্রবর্তী, সাংবাদিক ওয়ালী হাসান, জুয়েল রানা, আল আমীন হাওলাদারসহ মেলা উদযাপন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, মেলাটিকে সফল করতে আয়োজকদের পাশাপাশি স্থানীয় সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বরাবরের মতো এবারের মেলাও মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




