নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বেসরকারি আইপি টিভি ‘রুপসী বাংলা’র স্থানীয় প্রতিনিধি এবং সাহসী সংবাদকর্মী লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিনের মাথায় আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন (২১) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পরিচালক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে, গতকাল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।
গ্রেপ্তার আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়ার ছেলে। একই সঙ্গে দুর্গাপুরের একাধিক হত্যা মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী শুটার শামীমের ভাগনে।
নিহত লুৎফর জামান ফকির আলিফ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামক পেজ পরিচালনা করতেন। এই পেজের মাধ্যমে তিনি মূলত নেত্রকোনা সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুসন্ধানী সংবাদ প্রচার করতেন।
গত ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে স্থানীয় একটি মনোহারী দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরছিলেন আলিফ। রাত আনুমানিক পৌনে আটটার দিকে পথিমধ্যে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন গণমাধ্যমকর্মীকে এভাবে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়, যা সুশীল সমাজসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পরদিন ১৬ অক্টোবর নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী বাদী হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে স্বপ্রণোদিত হয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-১৪। তারা ঘটনাস্থলের তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-১৪ এর কাছে আনুষ্ঠানিক অধিযাচন (রিকুইজিশন) পাঠানো হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও নিবিড় গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সদর কোম্পানি, এসআরবি-১৪, ময়মনসিংহ-এর একটি আভিযানিক দল আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি আশিকুর রহমান প্রাঙ্গনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।
এসআরবি-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আলিফ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করতে এসআরবি-১৪ এর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


