নিজস্ব প্রতিবেদক | The Mail BD
কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির পর পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টটি প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই চালু ছিল। এর আগে জুন মাসে পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্কও করা হয়েছিল। তবু রিসোর্টটির কার্যক্রম চলছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি ভবনটিতে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১০ জন নিহত হন এবং ছয়জন আহত হন বলে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনাইদ জানান, জুনে পরিদর্শনের সময় রিসোর্টটিতে অগ্নিঝুঁকি শনাক্ত করা হয় এবং সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছাড়াই চালু ছিল। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার অ্যালার্ম ও যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার ঘাটতিও ছিল।
এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিককে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় মোট ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে; তাঁদের মধ্যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১৯ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপককেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল কেন এবং ভবন থেকে বের হওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঘটনাটি শুধু একটি রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশ্ন নয়; পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন, সতর্কবার্তা অমান্য করলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধ করার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু দুর্ঘটনার পর তদন্ত নয়, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। ইনানীর এই অগ্নিকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি, সতর্কবার্তার পর নেওয়া পদক্ষেপ এবং পর্যটনকেন্দ্রের অগ্নিনিরাপত্তা মানদণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


