দ্য মেইল বিডি ডেস্ক
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধ-অবসান প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে তেহরান। ইরানের কর্মকর্তারা বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ওয়াশিংটনের জবাবে কী বলা হয়েছে কিংবা সেটি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে কি না—এখনো তা প্রকাশ করা হয়নি। খবর এপি ও রয়টার্সের।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এপি জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তেহরানে ফিরে তিনি এ বিষয়ে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। এর আগে গত সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের রোডম্যাপ দেয়। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান, আস্থা তৈরির জন্য ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া এবং পরে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার কথা ছিল। এর বিনিময়ে ইরান মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয় চেয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া তেহরানে পৌঁছায়। আলোচনায় মূল অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি হলো বিভিন্ন পদক্ষেপ কোন ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনায় সাত দিনের একটি আস্থা তৈরির পর্বের কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে জুনে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন আগে ইরানের প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাঁর সরকার একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে যেকোনো চুক্তিকে ইরানি জনগণের অধিকার বিবেচনায় নিয়ে ‘win-win’ ভিত্তিতে হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করেছে। ফলে একদিকে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ—দুই প্রক্রিয়াই একই সময়ে এগোচ্ছে।
সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে নতুন মার্কিন জবাবকে ঘিরে এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ কতটা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, সেটিই পরবর্তী আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


