জামালপুর প্রতিনিধি: সুই-সুতোর ফোঁড়ে ফোঁড়ে বোনা হয় গ্রামীণ নারীদের সুখ-দুঃখ আর স্বপ্নের গল্প। আর সেই গল্পের ক্যানভাস যদি হয় ‘নকশি কাঁথা’, তবে অবধারিতভাবেই যে জেলার নাম সবার আগে উঠে আসে, তা হলো জামালপুর। ‘জামালপুরের নকশি কাঁথা, বাংলাদেশের গর্বগাথা’- এই জেলা ব্র্যান্ডিংকে ধারণ করে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের অমিত সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে জামালপুরে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ কর্মশালা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘জামালপুরে হস্তশিল্পের সম্ভাবনা ও প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে ‘জামালপুর জেলা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী সমিতি’। শুধুমাত্র শিল্প নয়, বরং জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) স্বীকৃতি পাওয়া এ পণ্যটিকে ঘিরে জামালপুরের অর্থনীতির চাকা কীভাবে আরও বেগবান করা যায়, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয় এই আয়োজনে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামালপুর জেলা হস্তশিল্প ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শাহীনুর আলম এবং অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুল রহমান লিটন।
কর্মশালায় বক্তারা নকশি কাঁথা ও সূচিশিল্পকে আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। বক্তারা বলেন, শিল্পের প্রসারে কারিগরদের জন্য উন্নত ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি, হস্তশিল্প ব্যবসায়ীরা যেন পুঁজির অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সেজন্য তাদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।
তৃণমূলের কারিগররা যেন তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনার তাগিদ দেন বক্তারা। বক্তারা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে উৎপাদক থেকে সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করতে হবে।
কর্মশালায় উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের কণ্ঠে সবচেয়ে জোরালোভাবে যে দাবিটি উচ্চারিত হয়, তা হলো জামালপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘নকশী পল্লী’ স্থাপন। বক্তারা আরও বলেন, পল্লী স্থাপিত হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রদর্শনী ও বিপণন- সবকিছুই একটি ছাতার নিচে আসবে। এর ফলে জামালপুরের বিশ্বমানের নকশী পণ্য বিদেশে রপ্তানির পথ আরও সুগম হবে।
বক্তারা যোগ করেন, ঐতিহ্যবাহী এই হস্তশিল্পের যথাযথ মূল্যায়ন ও বিশ্ববাজারে এর রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা যেমন সচল রাখা সম্ভব, তেমনি আগামীর সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা অর্জনেও এই শিল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


