জামালপুর প্রতিনিধি: নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে জামালপুরে পৃথক তিনটি অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক কিশোরসহ অপর দুই আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সাংবাদিকদের এই রায়ের বিস্তারিত নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সদর থানা, দেওয়ানগঞ্জ থানা এবং ইসলামপুর থানায় দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলার বিচারকাজ শেষে আদালত আজ এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
জেলার সদর থানায় দায়ের করা এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও পাশবিক নির্যাতনের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই মামলায় আলামিন ও সাইদুর রহমান নামের দুই মূল আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। কেবল কারাদণ্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেননি আদালত, অপরাধের মাত্রা ও ভুক্তভোগীর ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলামিনকে তিন লাখ টাকা এবং সাইদুর রহমানকে চাল লাখ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি স্পর্শকাতর নাবালিকা অপহরণ মামলারও নিষ্পত্তি হয়েছে এদিন। এই মামলায় অভিযুক্ত স্বাধীন নামের এক কিশোরের বয়স মাত্র ১৪ বছর। বয়স বিবেচনায় আদালত শিশু আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারকাজ সম্পন্ন করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় কিশোর স্বাধীনকে ১০ বছরের জন্য সংশোধনাগারে রাখার (আটকাদেশ) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া জেলার ইসলামপুর থানার অপর একটি অপহরণ মামলারও রায় ঘোষণা করা হয় এদিন। এই মামলায় অভিযুক্ত শ্রী জয় দাসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে পৃথক দুটি ধারায় ১০ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আদালতের এই রায় সমাজে অপরাধীদের জন্য সুস্পষ্ট ও কঠোর বার্তা। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে বিচার বিভাগের এমন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মাঝে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও জোরালো করবে।”




