নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। ক্রমাগত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নৈতিক স্খলনের মতো গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংগঠনটির উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হিমেল সরকারকে তার পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুর্গাপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংগঠনটির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ (বৃহস্পতিবার) থেকেই এই বহিষ্কারাদেশ পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর হয়েছে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে সকলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতা হিমেল সরকারের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের বা কবেকার ঘটনার প্রেক্ষিতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সেখানে স্পষ্টভাবে ‘ক্রমাগত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ ও ‘নৈতিক স্খলন’ এর বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং রাজনৈতিক সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
হিমেল সরকার দুর্গাপুর উপজেলার ৩ নম্বর চণ্ডীগড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশের নথিতে সংগঠনটির পক্ষে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দিয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের চারজন যুগ্ম-আহ্বায়ক- মীর্জা সালমান আরসাদ নজরুল, রাকিব হাসান, মো. রতন এবং সুমন মন্ডল।
উপজেলা পর্যায়ের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার এমন আকস্মিক বহিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে যে অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য সরিয়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা হিমেল সরকারের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


