কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৪ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ এবং তাদের একটি বড় অংশ কর্মস্থল ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সম্প্রতি কেন্দুয়ায় ফিরেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বছরের প্রথম দিকে সংক্রমণ কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে মাত্র তিনজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। জুলাই থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই আরও ১৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীসহ ২৩ জন রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত মঙ্গলবারও হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিলেন, তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। ডেঙ্গু পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “রোগীর জ্বর বা উপসর্গ শুরু হওয়ার সময় বিবেচনা করে আমরা এনএস১, আইজিএম, আইজিজি ও সিবিসি (NS1, IgM, IgG, CBC) পরীক্ষা করে থাকি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর প্লাটিলেট দ্রুত কমতে শুরু করে, তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।”
উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এখন পর্যন্ত পৃথক কোনো শয্যা বা সুনির্দিষ্ট আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা নেই। সাধারণ ওয়ার্ডেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত কয়েকজন রোগীকে তাদের স্বজনদের অনুরোধে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের অসচেতনতা। ডেঙ্গুর স্পষ্ট উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগী পরীক্ষা না করিয়ে বা হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে পুরো উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রকৃত রোগীর সংখ্যা কত, তার সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয় করা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
সীমাবদ্ধতার মাঝেও রোগীদের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. নাঈম হাসান বলেন, “ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। বাড়ির আশপাশে ফুলের টব, পুরোনো বোতল, কৌটা, ডাবের খোসা বা অন্য কোনো পাত্রে যেন বৃষ্টির পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”


