সারা দেশে অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধসহ এ বিষয়ে করা একটি আবেদন তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৩৪ হাজার ৬১২টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু রয়েছে। এর মধ্যে নিবন্ধনপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৯৮টি। বাকি বিদ্যালয়গুলো অনিবন্ধিত।
আবেদনে আরও বলা হয়, দ্য রেজিস্ট্রেশন অব প্রাইভেট স্কুল অর্ডিন্যান্স, ১৯৬২ অনুযায়ী বাংলাদেশে পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিবন্ধন থাকা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা হলে তা বন্ধ করে দেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট পরিচালনাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
রিটকারী মো. মেহেদী হাসান দাবি করেন, অনিবন্ধিত বিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে তিনি এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিটের শুনানি শেষে আদালত অনিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে রিটকারী যে আবেদন করেছিলেন, তা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিয়াউর রহমান ও মহসিন কবির রকি।
আদেশের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মো. কাওসার হোসাইন বলেন, হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নিবন্ধনের আওতায় আসার পথ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।


