নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ১৪ বছর তিন মাস বয়সী এক কিশোরীকে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে রক্ষা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিয়ের ঠিক আগমুহূর্তে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়। এ সময় কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না- মর্মে মুচলেকা আদায় করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের কেরনখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও অভিযান সূত্র থেকে জানা যায়, কেরনখলা গ্রামের ওই কিশোরীর বিয়ের জন্য বাড়িতে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছিল। বাড়ির প্রবেশপথে নির্মাণ করা হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন বিয়ের গেইট। মেহমানদের দাওয়াত থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়ার সব আয়োজনই ছিল সম্পন্ন। কনে সেজে বসেছিল, কেবল অপেক্ষা ছিল বরযাত্রী আসার। ঠিক সেই মুহূর্তে বাল্যবিবাহের গোপন খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হওয়ার পর বিয়ের আনন্দে ভাটা পড়ে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কনের জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র তলব করেন। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হন যে, কনের বর্তমান বয়স মাত্র ১৪ বছর তিন মাস, যা বাংলাদেশের প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য বৈধ নয়।
বয়সের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি তৎক্ষণাৎ বিয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বাল্যবিবাহ আয়োজনের অপরাধে কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে, ওই কিশোরীর প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর) না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই বিয়ে দেওয়া যাবে না- এই শর্তে কনের বাবার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা আদায় করে প্রশাসন।
বাল্যবিবাহ বন্ধের অভিযান প্রসঙ্গে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিবাহের তথ্য পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় উপস্থিত হই। কাগজপত্র যাচাই করে কনের অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিয়েটি বন্ধ করে দিই।”
তিনি আরও বলেন, “বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহের কোনো ঘটনা ঘটলে বা আয়োজন করা হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্য আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”


