জলঢাকা ( নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকায় গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া এলাকায় বুড়িতিস্তা নদী থেকে বোমাকাটা মেশিনের দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। এতে নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। বুধবার ( ২৬ আগস্ট) সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমানের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় নদীর পাড় থেকে আনুমানিক ৮০ গজ দূরে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
উত্তোলনের সময় নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে যাওয়ার চিত্রও দেখা যায়। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীর পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে তীরবর্তী জমি ও বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, এ এলাকায় মোট ১৫ হাজার সেফটি বালু উত্তোলনের চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত আনুমানিক ৫ থেকে ৬ হাজার সেফটি বালু উত্তোলন করা হয়েছে।
বালু উত্তোলনের অনুমতি বা সংশ্লিষ্ট কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এটিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি কাজ হিসেবে জানিয়েছেন। গোলমুন্ডা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বসুনিয়া বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা আহমেদ বলেন, আমাদের যে এস্টিমেট রয়েছে, সে অনুযায়ী এভাবে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোল্লা ইফতেখার আহমেদ বলেন, ওই এলাকায় কোনো ঘোষিত বালুমহাল নেই।
অভিযোগ পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করার পরও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।


