জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি মেলা গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এনজিও জেজেএস-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার আয়োজিত মেলায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফায়ার সার্ভিস ও সিপিপিসহ মোট আটটি স্টল অংশ নেয়। এরমধ্যে ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি ফায়ার সার্ভিস এবং একটি সিপিপি স্টল ছিল।
মেলায় প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অতিথি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মেলা চলাকালে কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় অংশগ্রহণকারী ও স্টল প্রতিনিধিদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হয়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আয়োজিত মেলার মাধ্যমে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে।
মেলায় আগত শিক্ষার্থী ও অতিথিরা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব এবং দুর্যোগের সময় করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে মোংলায় এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান বলেন, জলবায়ু ও দুর্যোগ প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের আয়োজন আরও সুপরিকল্পিতভাবে করা হলে এর সুফল আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। ভবিষ্যতে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আয়োজনের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আরও জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মেলায় অংশ নেয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বৃষ্টির কারণে সাময়িক অসুবিধা হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে সরাসরি বিভিন্ন তথ্য জানার সুযোগ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
মেলার আয়োজক জেজেএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা বাসস’কে জানান, সীমিত বাজেটের মধ্যেই সংগঠনটি নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজন করা সম্ভব হবে।
জেজেএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। সরকারি সহায়তা ছাড়াই সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
মেলা উদ্বোধনকালে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, বৃষ্টির কারণে মেলায় উপস্থিতিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ প্রস্তুতি বিষয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, মোংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আহসান হাবিব হাসান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুর আলম শেখ, জেজেএস-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নব কুমার সাহা, ক্লাইমেট চেঞ্জ এডুকেটার মো. তারিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে আবহাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মেলার অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে মোংলার মতো উপকূলীয় এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত সচেতনতামূলক মেলা, প্রশিক্ষণ ও মহড়া আয়োজন দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।


