নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিহিত এবং হাতে অস্ত্র থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করে বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাটইয়া ইউনিয়নের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহাঙ্গীর আলম।
ছবিটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মাঝে বিভ্রান্তির সঞ্চার ঘটেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিটিতে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা এবং ভারী অস্ত্র বহন করতে দেখা যায়।
আপাতদৃষ্টিতে ছবিটি বাস্তব মনে হলেও, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয় যে এটি সম্পূর্ণ এআই-জেনারেটেড। জাহাঙ্গীর আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “যদিও এআই পদ্ধতিতে তৈরি; মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অপারেশন অব্যাহত থাকবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, প্রতীক বা অস্ত্র ব্যবহার করে ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন স্পর্শকাতর ছবি প্রচার করা জনমনে ভুল বার্তা দেয় এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়। আইনগত জটিলতা ও সম্ভাব্য শাস্তির ধারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ছদ্মবেশ ধারণ বা অস্ত্র প্রদর্শন করে ছবি পোস্ট করা কেবল নৈতিক অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের বিদ্যমান সাইবার ও ফৌজদারি আইনের অধীনে গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (ধারা ২৫ ও ২৬) অনুযায়ী: অন্যের ছদ্মবেশ ধারণ, জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য বা ছবি ছড়ানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাটইয়া ইউনিয়নে সৌদিপ্রবাসী মহিউদ্দিনের পরিবারের কাছ থেকে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সহযোগী হিসেবে নাম আসে জাহাঙ্গীর আলমের।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রবাসী ও তাঁর পরিবারকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী প্রবাসী মামলা দায়ের করলে আসামিরা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরবর্তীতে আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নেন। গত ৫ অক্টোবর তাঁরা নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে পিবিআইয়ের তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
গত ১৪ অক্টোবর পুনরায় জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে রাখার আদেশ বহাল রাখেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ছবিটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উক্ত নেতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কবিরহাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যাঁরাই অপকর্ম করবেন—তিনি যে সংগঠনেরই হোন না কেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না।
কবিরহাটে কোনো সন্ত্রাসের রাজত্ব চলবে না। যাঁরা অন্যায় কাজ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া এবং নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।


