নোয়াখালী প্রতিনিধি:
মোহাম্মদ শহিদ নোয়াখালীর গুরুত্বপূর্ণ নোয়াখালী-৫ সংসদীয় ও প্রশাসনিক বলয়ের অধীনে থাকা কবিরহাট পৌরসভার পৌর প্রশাসক (সহকারী কমিশনার-ভূমি ) সানজিয়া ইসলাম জুইন -কে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি এখন স্থানীয় আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নথিপত্রে এটিকে “রুটিন বদলি” হিসেবে দেখা হলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এর পেছনে থাকা স্থানীয় অসাধু সিন্ডিকেট ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের সূক্ষ্ম চক্রান্ত।
পৌর ডিজিটাল সেন্টার ও রাজস্ব আদায়ে কঠোরতা সদ্য সাবেক পৌর প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা দালাল চক্র দূর করতে ডিজিটাল ব্যবস্থা জোরদার করেন। ফলে বছরের পর বছর ধরে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ে।
অবৈধ দখল ও খাসজমি উদ্ধার অভিযান কবিরহাট বাজার ও আশপাশের সরকারি খাসজমি, ফুটপাত এবং খাল দখল মুক্ত করতে তিনি কয়েক দফায় প্রাথমিক পদক্ষেপ নেন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, যারা দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছিল, তারা এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষুব্ধ হয়।
পৌরসভার টেন্ডার ও মাস্টাররোলে অনিয়ম রোধ উন্নয়ন প্রকল্প, দরপত্র এবং পৌরসভায় মাস্টাররোলে ভুয়া কর্মচারী দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের যে চর্চা ছিল, সেখানে তিনি কড়াকড়ি আরোপ করেন। দরপত্র প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় দীর্ঘদিন ধরে লাভবান হওয়া ঠিকাদার ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদীদের আঁতাত ব্যাহত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সোজাসুজি ফাইল বা প্রশাসনিক কাজে কোনো ত্রুটি না পেয়ে ওই মহলটি উর্ধ্বতন প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘অসহযোগিতা’ ও ‘জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়হীনতার’ মিথ্যা ও বানানো অজুহাত তুলে ধরে। এরপর এক প্রভাবশালী প্রশাসনিক নেপথ্য শক্তির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জোর লবিং চালিয়ে তড়িঘড়ি করে তার বদলি বা দায়িত্ব অবহতির আদেশ জারি করানো হয়।
হঠাৎ এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের ফলে পৌরসভার চলমান সংস্কার কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ নাগরিকরা অভিযোগ করছেন, কোনো সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই তাকে সরাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে এই অদৃশ্য চক্র।
কবিরহাটের সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে পৌরসভার নাগরিক সেবা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জিম্মি না হয়ে পড়ে।



