নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর জন্ম নেওয়া নবজাতকের জৈবিক পিতা হিসেবে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতক এবং আসামির ডিএনএর মাঝে ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল গণমাধ্যমকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর মদনে মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ভুক্তভোগী শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসাতেই পড়াশোনা করত এবং তার মা সিলেটে কাজ করতেন। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং সেখানে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব অভিযুক্ত সাগরকে গ্রেপ্তার করে। আদালতের আদেশে ১২ মে ভুক্তভোগী শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফহোম) পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কন্যাশিশুর জন্ম দেয় ওই শিশু। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগ প্রমাণের স্বার্থে গত ১৭ মে আসামির এবং ২৮ জুলাই সিআইডির মাধ্যমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
ডিএনএ রিপের্টে আসামির সাথে নবজাতকের ডিএনএ ৯৯.৯৯% মিলেছে, যা মামলার সবচেয়ে শক্তিশালী সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পিপি জানিয়েছেন, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হতে পারে। সোমবার মামলার নির্ধারিত শুনানির দিনে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা সরাসরি নাকচ করে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আশা প্রকাশ করেছেন, সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


