গাইবান্ধা: তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। অসহনীয় গরমে স্বস্তি পেতে গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন ভিড় করছেন চার্জার ফ্যান, আইপিএস ও ব্যাটারির দোকানে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্যের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। গাইবান্ধা শহরের স্টেশন রোড, নিউ মার্কেট, কলেজ রোডসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক পণ্যের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, চার্জার ফ্যান ও আইপিএস কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে।
অনেক দোকানে চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক মাসে মডেল, আকার ও মানভেদে চার্জার ফ্যানের দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। মাঝারি মানের ১২ থেকে ১৬ ইঞ্চি চার্জার ফ্যান এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকায়। বড় ও উন্নত মানের ফ্যানের দাম আরও বেশি। একইভাবে বেড়েছে আইপিএসের দাম। ব্যাটারির সক্ষমতা ও ব্র্যান্ডভেদে মাঝারি মানের আইপিএসের দাম বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বড় ক্ষমতার আইপিএসের দাম ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ সংকট ও বাড়তি চাহিদার কারণে গত এক মাসে মডেলভেদে আইপিএসের দাম ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গাইবান্ধা শহরের নিউ মার্কেটে ফ্যান কিনতে আসা পূর্বপাড়ার বাসিন্দা সেজান মাহমুদ বলেন, ‘লোডশেডিং হলে বাসায় থাকা কঠিন হয়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে এসেছি। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম অনেক বেশি।’
সুমন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আগে যে ফ্যান ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৬ হাজার টাকার কাছাকাছি। দোকানে দোকানে ঘুরেও একই অবস্থা দেখছি।’ স্থানীয় ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে চার্জার ফ্যানের বিক্রি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যেখানে দিনে কয়েকটি ফ্যান বিক্রি হতো, এখন তার কয়েক গুণ বিক্রি হচ্ছে। আইপিএস ও ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গরম ও লোডশেডিং—দুই কারণে মানুষ এখন বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে চাইছেন। ফলে চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদা বেড়েছে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় কিছু পণ্যের দামও বেড়েছে।’ এদিকে শুধু নতুন পণ্য নয়, পুরোনো চার্জার ফ্যান ও আইপিএস মেরামতের জন্যও মেকানিকের দোকানে ভিড় বাড়ছে।
বিশেষ করে ব্যাটারি পরিবর্তনের চাহিদা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে চার্জার ফ্যানের ব্যাটারি সক্ষমতা ও মানভেদে প্রায় ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি করা পণ্যের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সংযোজিত চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদাও বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সামনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর গাইবান্ধার উপ – পরিচালক পরেশ চন্দ্র বর্মন জানান ” আমরা বাজার মনিটরিং করে মূল্য বৃদ্ধির কোন তথ্য পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। “



