নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও জোরালো হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে মাদ্রাসাপড়ুয়া এক কিশোরী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ৭নং রায়পুর ইউনিয়নের কুড়ালদেও গ্রামে বিয়ের প্যান্ডেল ভেঙে দিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালত পরিচালনা করেন বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজেদুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কুড়ালদেও গ্রামের মো. মাজহারুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অর্পিতা আক্তার হাসির বিয়ের আয়োজন চলছিল। একই ইউনিয়নের তিলসিন্দুর গ্রামের অফাজ্জলের ছেলে মোজাম্মেলের সঙ্গে তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল শুক্রবার। কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হলেও পরিবারের লোকজন গোপনে বিয়ের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছিল। তৈরি করা হয়েছিল বিয়ের প্যান্ডেল, চলছিল অতিথি আপ্যায়নের জোর প্রস্তুতি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিয়ের খবর পৌঁছে যায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে। খবর পাওয়ার পরপরই কালক্ষেপণ না করে গ্রাম পুলিশকে সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজেদুল ইসলাম। কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি প্রথমেই কনের বয়স যাচাই-বাছাই করেন। জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কনে অর্পিতা আক্তার হাসির অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। এরপরই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেন।
বিয়ে বন্ধ করার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনোভাবেই বিয়ে দেবেন না মর্মে কনের পরিবারের কাছ থেকে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭-এর ১০ ধারা অনুযায়ী মুচলেকা আদায় করা হয়। একইসঙ্গে বিয়ের জন্য তৈরি করা প্যান্ডেল গ্রাম পুলিশের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে পণ্ড করে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজেদুল ইসলাম উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, “বাল্যবিয়ে ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বারহাট্টা উপজেলাকে সম্পূর্ণ বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে।” এ ধরনের অপরাধ রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের নির্ভয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
অভিযানের সময় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারাও নিজ এলাকায় বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি এই বিয়েটি বন্ধ রাখার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। প্রশাসনের এমন তড়িৎ পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।


