নিজস্ব প্রতিবেদক: উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের প্রবল তোড়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় গণেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঠের ব্রিজ ভেঙে গেছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ব্রিজটি ভেঙে ভেসে যাওয়ায় নলচাপড়া থেকে রানীগাঁও সড়কের যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে বিকল্প কোনো পথ না থাকায় ওই এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণেশ্বরী নদীর খরস্রোতা ঘোলা জলের প্রবল তোড় এবং উজান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা, গাছপালা ও বাঁশের ধাক্কায় কাঠের ব্রিজটির মাঝখানের বড় একটি অংশ সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্রিজের দুপাশের রেলিং এবং পাটাতনের কাঠগুলো এলোমেলোভাবে ভেঙে ঝুলে আছে। নদীর পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে তীব্র বেগে প্রবাহিত হওয়ায় ওই স্থানে পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় রানীগাঁও, দমদমা, আমবাড়ি পাড়া, নান্দাইলা পাড়া, চরপাড়া, দুগরি পাড়া, গুড়াগাঁও, খারনৈ, গোপাল বাড়ি ও বেদবাড়ি – এই গ্রামগুলোর মানুষের উপজেলা সদরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন রোগীরা। উপজেলা সদরে বা হাসপাতালে যাওয়ার জন্য এখন বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট নৌকা এবং কলাগাছ বা বাঁশের ভেলায় চড়ে উত্তাল নদী পার হতে হচ্ছে তাদের। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে একটি পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। তবে সম্প্রতি জনদুর্ভোগ লাঘবের কথা চিন্তা করে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার নিজ উদ্যোগে এই কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানির অস্বাভাবিক চাপ ও আবর্জনার ধাক্কায় ব্রিজটি টিকতে পারেনি।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আকস্মিক বন্যায় স্রোতের সাথে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনা, গাছ ও বাঁশ ব্রিজের খুঁটিতে আটকে প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে, যার ফলে মাঝের অংশটি ভেঙে যায়। এলাকার মানুষের দ্রুত পারাপারের জন্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় নিজস্ব উদ্যোগে এটি করে দিয়েছিলেন। আমরা দ্রুত এটি মেরামতের চেষ্টা করব। পুনরায় এটি চালুর বিষয়ে স্পিকার মহোদয়কে অবগত করে পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।” আপাতত জরুরি পারাপারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর আক্ষেপ, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে বা পাহাড়ি ঢল নামলে এভাবেই কাঠের বা বাঁশের তৈরি অস্থায়ী ব্রিজগুলো ভেঙে যায় এবং তাদেরকে মাসের পর মাস চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই প্রতি বছরের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে গণেশ্বরী নদীর ওপর অবিলম্বে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


