নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অবস্থিত বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে একাডেমির হলরুমে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক অঞ্জন কুমার চিছাম এর সভাপতিত্বে এবং একাডেমির নৃত্য শিক্ষক মালা মার্থা আরেং এর সাবলীল সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও আদিবাসী নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক প্রিন্সিপাল জেমস রারেন্দ্র দ্রং, সাবেক প্রধান শিক্ষক বীরেশ্বর চক্রবর্তী, সেলেষ্টিন রিছিল, রুসা এর নির্বাহী পরিচালক এম এন আলম, বিশিষ্ট আদিবাসী নেতা গিলবার্ট চিসাম এবং নারী নেত্রী লুদিয়া মানঞ্চ সাংমা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বদরবারে রবীন্দ্রনাথের অসামান্য অবদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি আধুনিক বাঙালি সংস্কৃতির যে মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়েই আজ আমাদের সাংস্কৃতিক জাগরণ।
রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক প্রতিভার কথা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, একাধারে কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সুরকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী ও দার্শনিক হিসেবে তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখাকে নিজ হাতে সমৃদ্ধ করেছেন। তিনি শুধু সাহিত্যিকই ছিলেন না, ছিলেন এক মহান সমাজ সংস্কারক ও সম্প্রীতির রূপকার। ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি ‘রাখিবন্ধন’ উৎসবের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলিম তথা আপামর বাঙালির মাঝে সম্প্রীতির যে অমোঘ বার্তা দিয়েছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কালজয়ী কর্ম ও উদার জীবনদর্শনের মাধ্যমে প্রতিটি বাঙালির অন্তরে চিরভাস্বর হয়ে আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন।
আলোচনা পর্ব শেষে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির নিজস্ব শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ সময় শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ও সুরারোপিত বিখ্যাত সব গান পরিবেশন করেন এবং গানের তালে তালে নান্দনিক নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। আলোচনা ও সুরে-ছন্দে কবিগুরুকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


