নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলাধীন বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন রোধসহ ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের উন্নয়নমূলক কাজের ওপর সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম সমাজের নানা অসংগতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও আত্মহত্যার মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় পুলিশের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাদক ও জুয়ার নেশা নির্মূলে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কেবল পুলিশি ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, অভিভাবকদের সচেতনতা এখানে সবচেয়ে বেশি জরুরি।”
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ইভটিজিং এবং সাধারণ মানুষের ওপর যেকোনো ধরনের আঘাত কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পাশাপাশি, মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ বন্ধে আমাদের অনড় থাকতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে যেকোনো মানসিক সংকটে আত্মহত্যার মতো ভুল পথ বেছে না নিয়ে, জীবনকে ভালোবাসতে শিখতে হবে।”
উপস্থিত জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “মনে রাখবেন, অপরাধী যেই হোক- তার কোনো ছাড় নেই। আপনারা নির্ভয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন। আমরা আপনাদের সুস্থ, সুন্দর ও অপরাধমুক্ত সমাজ উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশ গড়ার কাজে কীভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়েও সমাবেশে আলোচনা করা হয়। পুলিশের এমন জনসচেতনতামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীজন ও অভিভাবকমহল।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং অত্র বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রী। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সমাবেশটি প্রাণবন্ত রূপ লাভ করে।


