মধ্যনগর(সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের কার্তিকপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মজিদ আর নেই। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, ছয় মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১১টায় কার্তিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে কার্তিকপুর বড়ইবাড়ী সামাজিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। দাফনের আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় এবং মধ্যনগর থানার পুলিশের একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করেন।
জানাজা ও দাফান অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। জাতি তাঁর এই আত্মত্যাগ ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানিয়ে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।
তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। মরহুমের একমাত্র ছেলে সবার কাছে তাঁর বাবার জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, তাঁর বাবা আজীবন দেশপ্রেম ও সততার সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুল মজিদ ছিলেন এলাকার একজন সম্মানিত ও মানবিক ব্যক্তি। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি সবসময় পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মজিদের মৃত্যুতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা



