কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)প্রতিনিধিঃ
টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ধলাই নদীর মখাবিল পুরাতন মসজিদ সংলগ্ন নির্মাণাধীন অসম্পন্ন বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর, আদমপুর, আলীনগর ও মাধবপুর,পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ইসলামপুর-আদমপুর সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।
তিনটি মাধ্যমিক ও ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধানের ক্ষেত। এ ছাড়া পানি বেড়ে যাওয়ায় এখনো ঝুঁকিকে রয়েছে বাঁধের ৮ থেকে ১০ টি স্থান। 
আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বুধবার রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীতে বিএসএফ এর বাধার কারণে প্রতিরক্ষা বাধ অসম্পূর্ণ থাকায় সেদিকেই নদীর পানি ঢুকে ইসলামপুর,আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। বিশেষ করে মখাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গঙ্গানগর, কোনাগাঁও, বেরীগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায়বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারা, মাধবপুর ইউনিয়নের বাঘবাড়ি,শিববাজার ধলাইপাড়,ভাষানীগাও এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে।
এছাড়া ছড়ার পানিতে আলীনগর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর, চিৎলিয়া, রামেম্বরপুর, আলীনগর বস্তিসহ আরো অন্তত চারটি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে মাধবপুরের লঙ্গুরপার, ভাষানীগাও, ভান্ডারীগাঁও এলাকার ফসলের জমি গ্রামীণ সড়ক। এতে এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে, ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ সদরের লঙ্গুরপার, পৌরসভার কুমড়াকাপনসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
উপজেলার ভান্ডারীগাও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলী বলেন, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পুরো দুই ফুট পানি। তাই চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের ভাষ্যমতে ধলাই নদীর মখাবিলের অংশ অনেক আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড বার বার চেষ্টা করেও ভারতের বিএসএফ বাধার কারণে বাঁধ মেরামত করতে পারছে না যার কারণে বারবার এই এলাকার মানুষ বড় ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) বিকালে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল গ্রামের বাঁধ পরিদর্শনে যান কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী কমিশনার ভূমি মো.রিয়াজ মাহমুদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমেদ, মখাবিল সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবির সেক্টর কর্নেল মকবুল আলী,উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ন আহ্বায়ক আবুল হোসেন ও কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন,সহসভাপতি পিন্টু দেবনাথ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমূখ।
এসময় মখাবিল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ জনের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বীন ওয়াহিদ বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)’র বাধার কারণে মোখাবিলের অংশটুকুর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বাধার মুখে যতটুকু সম্ভব ছিল, ততটুকুই করা হয়। ধলাই নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে। কয়েকটি স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন করে প্লাবিত হবার আশঙ্কা রয়েছে।কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে মখাবিল এলাকা পরিদর্শন করেছি, বন্যায় প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে আমরা শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করছি। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।