নিজস্ব প্রতিবেদক: কবি ও চিন্তক এনামূল হক পলাশের ৪৯তম জন্মদিন উদ্যাপন এবং তাঁর নতুন প্রবন্ধগ্রন্থ ‘সভ্যতার জন্ম থেকে ইসলামের আলো’ এর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঘাসফুল’ এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও অনুবাদক জহির হাসান। তিনি বলেন, “কবি এনামূল হক পলাশ ছোট্ট একটি বইয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক ইসলামের দর্শন সম্পর্কে অত্যন্ত গভীর চিন্তার খোরাক জুগিয়েছেন। বইটি পাঠ করলে এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে জানার আগ্রহ তৈরি হবে। পুরো বইটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”
অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ও বইয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এনামূল হক পলাশ বলেন, “সারা বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। আমাদেরকে বেছে নিতে হবে সিরাতুল মুস্তাকিম এর পথ।”
বইটির ভাবনা, তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট এবং সমকালীন ইসলামের সাংস্কৃতিক বাস্তবতার গুরুত্ব তুলে ধরে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- কবি মোশাররফ হোসাইন, কবি নকিব মুকশি, লেখক ও অনুবাদক দিদারুল আলম, বাচিক শিল্পী রহমান ইমন এবং লেখক ও চিন্তক অভ্র ভট্টাচার্য।
বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন, এনামূল হক পলাশ তাঁর বইয়ের শিরোনামে যেমন স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, তেমনি পুরো গ্রন্থজুড়ে ইসলামের মূল স্পিরিট সম্পর্কে নতুন আলাপের পথ খুলে দিয়েছেন। বইটির ভাষা, যুক্তি ও বিশ্লেষণ সমসাময়িক পাঠকের কাছে ধর্মীয় ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হয়ে উঠবে।
কবি নীরব মোহন্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদ আহমেদ, রাজু আহমেদ, রুমন সেখ, সঙ্গীতায়োজক বিজন দাস, জিসান চৌধুরী, কবি অনার্য শান্ত, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ ও প্রকাশক মাহ্দী আনাম প্রমুখ। আলোচনা শেষে কেক কেটে কবির ৪৯তম জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়।
ঘাসফুল থেকে প্রকাশিত ‘সভ্যতার জন্ম থেকে ইসলামের আলো’ প্রবন্ধগ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন খন্দকার যুবাইর। বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৫ টাকা।

তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ চাই’ (২০০৯), ‘জীবন এক মায়াবী ভ্রমণ’, ‘অন্ধ সময়ের ডানা’, ‘পাপের শহরে’, ‘সুফি কবিতা’ এবং ‘পলায়নের আগে’। এছাড়া শিশুতোষ বই, প্রবন্ধ এবং গবেষণাধর্মী একাধিক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন।
অনুবাদক হিসেবেও তিনি সমান উজ্জ্বল। ‘ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের মত সুন্দর’, ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের ‘লিখে রাখো আমি একজন আরব’, ‘নির্বাচিত কবিতা নাজিম হিকমত’ এবং পাওলো কোয়েলহোর বইয়ের অনুবাদ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজ। ২০২২ সাল থেকে গীতিকার হিসেবে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পান। ‘গণতন্ত্রের গান’, ‘রাত্রির গান’, ‘বাউল জন্ম’ সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।
নেত্রকোনায় কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রতিষ্ঠিত ‘কবিতাকুঞ্জ’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন অবকাঠামো গঠনে তিনি যুক্ত ছিলেন এবং প্রথম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরই ধারণাপত্রের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেত্রকোনায় ‘ভূমি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সাহিত্যে ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য তিনি ‘অমর একুশে স্মৃতি পদক-২০১৬’, ‘মেঠোসুর গুণিজন সম্মাননা-২০২৪’, ‘কংস থিয়েটার সম্মাননা-২০২৪’সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।