জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে নারী ও শিশু নির্যাতনের পৃথক দুটি চাঞ্চল্যকর মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আদালত। এর মধ্যে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জোড়া রায় ঘোষণা করেন। উভয় দণ্ডপ্রাপ্তকেই পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আলাল সেক (৫৩)। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২৬ মে রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে আলাল সেক যৌতুকের দাবিতে তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরবর্তীতে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
নৃশংস এই ঘটনার পর নিহত নাইফুলের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আলাল সেক পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার রায় শোনান বিচারক। এ মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
একই আদালতে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অপর আরেক মামলার রায়ও ঘোষণা করা হয়। এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- রাজীব হোসেন (৩৮)। সে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।
মামলার নথির বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে প্রতিবেশী রাজীব হোসেন ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর শয়নকক্ষের জানালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে সে ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীর আত্মচিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা ছুটে এলে রাজীব হাতেনাতে ধরা পড়ে। তবে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
পরবর্তীতে নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী নিজেই বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামি রাজীব হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি রাজীব হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিল। এ মামলায় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।
এসব রায়ের মাধ্যমে সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।



