মোবাইল সংযোগ খাতে সংস্কার আনা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে এবং ২০৩৪ সাল নাগাদ সরকারের বার্ষিক রাজস্ব আয় স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বাড়তে পারে। নতুন প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাটিতে বলা হয়, মোবাইল খাতে প্রস্তাবিত কর সংস্কারের ফলে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ, মোবাইল ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সারা দেশে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়বে। এর মাধ্যমে মাথাপিছু জিডিপির বার্ষিক প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

ইউরোপভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিকস লিমিটেডের চলতি বছরের মে মাসে ‘বাংলাদেশ ক্যান ইনক্রিজ ইকোনমিক গ্রোথ বাই লোয়ারিং ব্যারিয়ার্স টু ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটালাইজেশন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ই-কমার্স খাতের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। উন্নত সংযোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি করভিত্তি ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তারা উল্লেখ করেন, মোবাইল খাতে করের চাপ কমাতে নেওয়া সংস্কার ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং জাতীয় রাজস্বের আওতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

মোবাইল খাতের এই কর সংস্কারের ফলে দেশের সামগ্রিক ভোক্তা চাহিদা বাড়বে বলেও প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা বা পেনিট্রেশন ৫ শতাংশ এবং গ্রাহকপ্রতি গড় ডেটা ব্যবহার ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটালাইজেশন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করে এবং কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়ায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মোট রাজস্ব আয় জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল খাত এ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম উচ্চ করের বোঝা বহন করছে। খাতটির মোট আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশই বিভিন্ন কর ও ফি পরিশোধে ব্যয় হয়।

বর্তমান কর কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১ শতাংশ সারচার্জ, রেভিনিউ শেয়ারিং (রাজস্ব অংশীদারিত্ব) বাধ্যবাধকতা এবং সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ডে (সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল) অবদান।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান ৩০০ টাকার সিম কর নতুন গ্রাহকদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের ওপর ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর আরোপ করা হয়, যা অধিকাংশ অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক বেশি।

প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামোর আওতায় সম্পূরক শুল্ক ও রেভিনিউ শেয়ারিং চার্জ কমিয়ে সম্মিলিত বিক্রয় ও টার্নওভার করের হার ২৩ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে টার্নওভার কর ও সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ড বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে সিম কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার এবং মোবাইল অপারেটরদের করপোরেট করের হার কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সংস্কারের ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে মোবাইল খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা কমলেও এটি হবে একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড।

প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৭৬ কোটি ১০ লাখ (৭৬১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কমতে পারে। যা মোট সরকারি কর রাজস্বের প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশের সমান।

তবে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে ধীরে ধীরে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতে আর্থিক ভারসাম্য বা ফিসকাল ব্রেক-ইভেন অর্জিত হবে। এরপর থেকেই সংস্কারের ফলে সরকার ইতিবাচক আর্থিক সুফল পেতে শুরু করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়, বিদ্যমান কর কাঠামোর তুলনায় এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩৪ সাল নাগাদ বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার নিট রাজস্ব আয় হতে পারে।

এতে খাতভিত্তিক কর পুনর্নির্ধারণ, ডিজিটাল সংযোগে সিম-সংক্রান্ত বাধা দূর করা এবং সংস্কারগুলোকে সরকারের বৃহত্তর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১’ কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংস্কারের শুরুর বছরগুলোতে সাময়িক রাজস্ব ক্ষতি সামাল দিতে একটি কার্যকর ‘আর্থিক রূপান্তর পরিকল্পনা’ (ফিসকাল ট্রানজিশন প্ল্যান) প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে অর্থনৈতিক সুফল পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version