ঈদের চাঁদ এখনো আকাশে ওঠেনি। কিন্তু কোরবানির আমেজ নেমে এসেছে মেহেরপুরের জনপদে। ভোর হতে না হতেই জেলার গাংনী উপজেলার বামুন্দী-নিশিপুর পশুর হাটে শুরু হয় মানুষের ঢল। দূর থেকে ভেসে আসে গরুর ডাক, ট্রাকের শব্দ আর ব্যাপারীদের হাঁকডাক। শত বছরের পুরোনো এই হাট যেন আবারও জেগে উঠেছে বাংলার গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা উৎসব নিয়ে। মাঠজুড়ে সারি সারি দেশি গরু, খামারিদের মুখে আশা-নিরাশার মিশ্র গল্প, আর ক্রেতাদের চোখে কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে বামুন্দী এখন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক বিশাল প্রাণচাঞ্চল্যের কেন্দ্র।

আসন্ন ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগের ঐতিহ্যবাহী এই পশুর হাটে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা প্রতিটি হাটের দিন এখানে ভিড় করছেন পশু কিনতে। কয়েক বছরের তুলনায় এবার বাজারে পশুর উপস্থিতি বেশি। দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবুও হাট জুড়ে উৎসবের আবহ স্পষ্ট।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই পশুর হাটে সারাবছরই সপ্তাহে দুই দিন (শুক্রবার ও সোমবার) চলে বেচাকেনা। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ে। বছরের কিছু মাসে অতিরিক্ত হাটও বসে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরু-ছাগলের কেনাবেচায় সরগরম থাকে পুরো এলাকা। ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসছেন গরু কিনতে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

বর্তমানে কোরবানি দিতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও বাজারে বড় বড় ব্যাপারীদের আনাগোনা বেড়েছে। হাটে ৭০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের গরু বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের দাম ৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে পশুর দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

প্রান্তিক খামারি মোশারফ আলী বামুন্দি বাজারে গরু বিক্রি করতে এসেছেন। বাসসের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, খড়, ভুসিসহ গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গরু লালন পালনে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক দাম বলছেন ব্যাপারীরা।

তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী দাম না পেলে গরু বিক্রি করব না। এছাড়া দালালদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে গরু কিনছে। এ কারণে গরুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছি না।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, এই বছর মেহেরপুরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৩৪৯টি ষাঁড়, ৪ হাজার ৮৪৪টি বলদ, ৮ হাজার ৫০৯টি গাভি, ৪৮২টি মহিষ, ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি ছাগল এবং ২ হাজার ৭২০টি ভেড়া। জেলার চাহিদা প্রায় ৯০ হাজার পশু। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।

হাট ইজারাদারদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এই হাটে প্রায় তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ কোটি টাকার পশু কেনাবেচার সম্ভাবনা রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version