শেখ শামীম: নেত্রকোনা জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলার মানুষের দীর্ঘ ১০৮ বছরের লালিত স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হতে চলেছে। নেত্রকোনার জারিয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুর্গাপুর উপজেলা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ এবং এই জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব আশাব্যঞ্জক তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অর্থাৎ ১০৮ বছর ধরে জারিয়া পর্যন্ত রেললাইন ছিল, আমরা দুর্গাপুর-কলমাকান্দাবাসী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবং সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের (সেতু) মাস্টারপ্ল্যান একনেক সভায় পাস হয়েছে। আনন্দের বিষয় হলো, পাঁচটি সেতুর মধ্যে চারটিই নির্মিত হচ্ছে দুর্গাপুর-কলমাকান্দা অঞ্চলে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সোমেশ্বরী নদীর ওপর এবং মহাদেও নদীর ওপর নির্মিতব্য সংযোগ সেতু। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুরের অবহেলিত জনপদ মূল ভূখণ্ডের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হবে।
দুর্গাপুরের উন্নয়নের স্বার্থে সকল রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এক মঞ্চে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে পার্শ্ববর্তী পূর্বধলা উপজেলার সংসদ সদস্য (যিনি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত) উপস্থিত হলে প্রধান অতিথি তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার বক্তব্যে বলেন, “দেশের স্বার্থে এবং এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে না। আমরা সবাই মিলে আধুনিক ও সমৃদ্ধ দুর্গাপুর-কলমাকান্দা গড়ে তুলবো।”
সভার শুরুতে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন, যা অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। রেললাইন ও নতুন সেতুর খবর শুনে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প এবং অর্থনৈতিক খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রেলপথ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
বক্তারা সকলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু এবং স্বচ্ছতার সাথে তা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এতে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



