নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আর্দ্রতার (ময়েশ্চার) অজুহাত দেখিয়ে কোনো কৃষককে ধান দিতে বাধা বা হয়রানি করা যাবে না বলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এমপি।
রবিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পৌর শহরের জেলা পাবলিক হলে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ-২০২৬’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রদানের লক্ষ্যে খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি কৃষকদের কল্যাণে এবং দেশের খাদ্য মজুদ সুসংহত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে হাওর অঞ্চলের কৃষকদের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়ের আগেই সাত জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। ১৫ তারিখ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হাওর অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আজ থেকেই তা শুরু করা হলো।” সরকারি নির্ধারিত মূল্য যেন সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। কোথাও কোনো অনিয়ম হলে সরাসরি তাকে ফোন করে জানানোরও নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আগামী জুলাই মাস থেকে দেশের প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে সব শিক্ষার্থীকে সরকারের পক্ষ থেকে একই ধরনের ড্রেস, জুতো এবং ব্যাগ দেওয়া হবে। ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করতেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির শিকার না হয়।”
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে তিনি জানান, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের মতো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তৃণমূলের মানুষ সরাসরি এর সুফল পায়।
হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া মাত্রই জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। বন্যা বা দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষের জন্য তিন মাসের খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা অঞ্চলের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। দুর্গাপুরে কাটানো সাড়ে তিন বছরের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, তার সন্তানরাও ময়মনসিংহের ভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত।
অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা।
দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন, ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মো. নূরুজ্জামান (নুরু), ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আরিফুল ইসলাম সরদার ও পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম।
এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষক, চালকল মালিক এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



