শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নির্মিত কালচারাল একাডেমি ও হোস্টেল ভবনটি দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। অযত্ন-অবহেলায় ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও, অবশেষে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটতে যাচ্ছে।
‘দ্যা মেইল বিডি ডটকম’ অনলাইন পোর্টালে “২৪ বছরেও চালু হলো না কলমাকান্দার কালচার একাডেমি, চুরি গেছে টিন-গ্রিল” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জনপ্রতিনিধির নির্দেশনায় একাডেমিটি পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুরের স্বনামধন্য ‘বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি’র আদলে নতুন করে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, কলমাকান্দা উপজেলায় গারো, হাজংসহ নানা ধর্ম ও বর্ণ-পেশার মানুষের বসবাস। তাদের সংস্কৃতির বিকাশ ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে উপজেলার চিনাহালা মৌজায় স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র মল্লিক, অনিল চন্দ্র মল্লিক, সতীশ চন্দ্র মল্লিক ও ক্ষিতীশ চন্দ্র মল্লিক ১.৮৬ একর জমি সরকারের নামে সাব-কাওলা দলিলের মাধ্যমে দান করেন।
পরবর্তীতে ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে একটি একাডেমিক ভবন ও একটি হোস্টেল নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে গত প্রায় ২৪ বছরেও এর কোনো কার্যক্রম চালু হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের অবহেলায় একাডেমি প্রাঙ্গণ ঝোপঝাড়ে ঢাকা পড়েছে। নিচু জমি হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে ভবনের আঙিনাসহ আশপাশ জলাভূমিতে পরিণত হয়েছে। পাকা এঙ্গেলসেটের ওপর তৈরি করা টিনশেড ঘরের টিন, এঙ্গেল, গ্রিলসহ মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী অনেক আগেই দুর্বৃত্তরা চুরি করে নিয়ে গেছে। জানালা-দরজাহীন স্থাপনাটি এখন ভগ্নপ্রায় কাঠামো ছাড়া আর কিছুই নয়।
এ বিষয়ে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুকুল স্নাল হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নের জন্য নির্মিত এই একাডেমি বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে কার্যক্রম চালু না হলে এ জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে পড়বে।”
তবে গত ২০ এপ্রিল ‘দ্যা মেইল বিডি ডটকম’ অনলাইন পোর্টােলে এ নিয়ে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেছেন। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় জরাজীর্ণ ভবনগুলি মেরামত ও নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালুর বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এ পত্রে কলমাকান্দা উপজেলার চিনাহালা মৌজায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ একাডেমি- পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির আদলে প্রতিষ্ঠার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে কলমাকান্দার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দ্রুত এই প্রস্তাবনাটি পাশ হয়ে একাডেমিটি আলোর মুখ দেখবে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
