নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমির ধান গরু দিয়ে খাওয়ানোতে বাধা দেওয়ায় কাঠের মুগুর দিয়ে পিটিয়ে বর্গাচাষি বাচ্চু মিয়াকে (৬৫) হত্যার ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামি শহীদুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারকৃত শহীদুল ইসলাম তিনি নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানা এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা শহীদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানি এবং র্যাব-৯ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃত শহীদুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত বাচ্চু মিয়া দরিদ্র বর্গাচাষি ছিলেন। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে কষ্টে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার বর্গা নেওয়া আবাদি জমির পাশেই আসামি শহীদুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিদের বসতবাড়ি। অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের গরু-ছাগল দিয়ে বাচ্চু মিয়ার আবাদি জমির ফসল নষ্ট করে ক্ষতিসাধন করত। বাচ্চু মিয়া তাদের এই কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেনি।
গত ২৬ মার্চ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বাচ্চু মিয়া দেখতে পান, শহীদুল ও অন্যান্য আসামিরা গরু দিয়ে তার বর্গা নেওয়া জমির ধান খাওয়াচ্ছে। এ সময় বাচ্চু মিয়া ধানক্ষেত থেকে গরুগুলো সরিয়ে দিতে গেলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাচ্চু মিয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে কিল-ঘুষি মারে এবং কাঠের মুগুর দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। নির্মম এই আঘাতে বাচ্চু মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আলামিন তালুকদার (৩১) বাদী হয়ে নেত্রকোনার মদন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৮ মার্চ দায়ের করা এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
মামলা রুজু হওয়ার পরপরই র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ (সদর কোম্পানি) ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তারই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামি শহীদুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ইতোমধ্যে নেত্রকোনার মদন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

