নিজস্ব প্রতিবেদক: ”স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ”- এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পালিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিবসটি ব্যাপক পরিসরের বদলে নিতান্তই দায়সারাভাবে পালন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আয়োজনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং জনসচেতনতামূলক তেমন কোনো কার্যক্রম না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অভ্যন্তরীণ র্যালি এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়েই দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মতো তাৎপর্যপূর্ণ এমন দিনে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে কোনো বড় উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কিন্তু আয়োজকদের সীমিত ও দায়সারা উদ্যোগের কারণে দিবসটির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এমন একটি দিনকে ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন বা আলোচনা সভা আয়োজন করা উচিত ছিল।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আব্দুল লতিফের সঞ্চালনায় এ সভায় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন, মেডিকেল অফিসার ডা. শেখ ফারহানা সুলতানা এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুব্রত চক্রবর্তী।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন, ডিএসকের প্রকল্প সমন্বয়কারী রূপন কুমার সরকার, রুসা’র পরিচালক নুরে আলমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিগণ। বক্তারা স্বাস্থ্য সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরলেও, সাধারণ দর্শকের অভাবে সেই বার্তা কতটুকু জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

