নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গভীর রাতে সিএনজি অটোরিকশার এক নারী যাত্রীকে নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় অন্যতম মূল আসামি মো. হান্নান মিয়াকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারকৃত মো. হান্নান মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সোয়া র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে গতকাল (সোমবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী কিশোরগঞ্জ থেকে বাজিতপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠেন। পথিমধ্যে সিএনজি চালকের পূর্বপরিচিত আসামি হান্নান মিয়াসহ আরও কয়েকজন ওই সিএনজিতে ওঠে।
পরে সিএনজি চালক ও হান্নানসহ অন্যান্য আসামিরা মিলে গাড়িটি অপরিচিত ও নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ভুক্তভোগী নারীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে তারা। ধর্ষণের পর আসামিরা ভুক্তভোগীকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পাশবিক এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানায় গণধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রুজু করা হয়।
মামলা রুজু হওয়ার পরপরই পলাতক ধর্ষকদের আইনের আওতায় আনতে সিপিসি-২, র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
ছায়া তদন্তের একপর্যায়ে র্যাব তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হয় যে, মামলার অন্যতম আসামি হান্নান মিয়া নারায়ণগঞ্জে আত্মগোপন করে আছে। এতথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-২, র্যাব-১৪ এর আভিযানিক দল র্যাব-১১ (সদর কোম্পানী, নারায়ণগঞ্জ) এর সহায়তায় সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বটতলা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে সফলভাবে গ্রেফতার করে।
র্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হান্নান মিয়াকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

