মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক ভয়াবহ ঝড়ের তাণ্ডবে মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার এক হতদরিদ্র কৃষক। আর্থিক অনটনের কারণে খোলা আকাশের নিচে পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করা অসহায় এই মানুষের দুর্দিনে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এসেছে মোহনগঞ্জ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বসতঘর পুনর্নির্মাণের জন্য ঢেউটিন প্রদান করে এলাকায় মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের জিকড়খলা গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র কৃষক গোবিন্দ দাসের বসতঘরটি সম্প্রতি হঠাৎ আঘাত হানা এক শক্তিশালী ঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই উড়ে যায় ঘরের চালের টিন ও চারপাশের বেড়া। নিমিষেই পুরো ঘরটি বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালানো গোবিন্দ দাসের পক্ষে নিজের সামান্য আয় দিয়ে পুনরায় ঘরটি নির্মাণ করা একেবারেই অসম্ভব ছিল। ফলে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা, তীব্র দুর্ভোগ আর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি।
অসহায় এই কৃষকের এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির খবর পৌঁছায় স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের কাছে। কালক্ষেপণ না করে দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে আসে মোহনগঞ্জ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন বাবু এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুছ সাদী চৌধুরী অপুর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় ওই কৃষকের সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরটি নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ঢেউটিনের ব্যবস্থা করা হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেকেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জিকড়খলা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে কৃষক গোবিন্দ দাসের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তার হাতে ঘর তোলার জন্য এসব নতুন টিন তুলে দেন। এ সময় সেখানে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রায়হান, সাধারণ সম্পাদক জিয়াসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন করে ঘর তোলার সামগ্রী হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কৃষক গোবিন্দ দাস। অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন, “সর্বনাশা ঝড়ে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবো, কী খামো- কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। চারদিকে যখন অন্ধকার দেখছিলাম, ঠিক তখনই ছাত্রদলের ভাইয়েরা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের সাহায্য আমার ও আমার পরিবারের জন্য একেবারে নতুন জীবনের মতো। এখন অন্তত চালের নিচে শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না, তাদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”
মানবিক এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে মোহনগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকির হোসেন বাবু বলেন, “রাজনৈতিক আদর্শের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা সবসময় সমাজের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। কৃষক গোবিন্দ দাসের আকস্মিক ক্ষতির কথা জানতে পেরে আমরা বসে থাকতে পারিনি। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছি। জনকল্যাণমূলক এ ধরনের সহায়তা আমাদের ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুছ সাদী চৌধুরী অপু বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য- এটা আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। সমাজের দায়িত্বশীল ছাত্র সংগঠন হিসেবে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিপর্যয়ে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই। তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এদিকে, অসহায় কৃষকের দুর্দিনে ছাত্রদলের এমন সময়োপযোগী ও মানবিক সহায়তার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো মোহনগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের এমন জনবান্ধব কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

