Site icon দ্যা মেইল বিডি / খবর সবসময়

গাইবান্ধায় জ্বালানি সংকটে স্থবির চরাঞ্চলের কৃষিকাজ

গাইবান্ধা:

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসরত কৃষকদের ওপর। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কোচখালী চর ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিকাজ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা—সবকিছুতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এসব অঞ্চলে সেচ, ভুট্টা মাড়াই, এমনকি যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা চালাতেও নির্ভর করতে হয় শ্যালো মেশিনের ওপর।

আর সেই মেশিন চালাতে প্রতিদিনই প্রয়োজন জ্বালানি তেল। কিন্তু সংকটের কারণে সেই তেলই এখন সবচেয়ে দুর্লভ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় নদীবন্দরগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের বাধ্য হয়ে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের শহরে গিয়ে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ।

অনেক কৃষক আবার নিয়ম অনুযায়ী বোতলে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতেও পারছেন না। ফলে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তারা খালি হাতে ফিরে আসছেন। কোচখালী চরের কৃষক মজিবর রহমান জানান,” কয়েকদিন আগেও সহজেই স্থানীয় ঘাট থেকে তেল পাওয়া যেত। এখন সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন কাজ ফেলে মাত্র ২ লিটার তেলের জন্য গাইবান্ধা শহরে যেতে হচ্ছে, তাতেও নিশ্চয়তা নেই তেল পাওয়া যাবে কিনা।

ফলে জমিতে সেচ দিতে দেরি হচ্ছে, অনেক ক্ষেতেই ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।” ভুট্টা মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত কৃষক আজিম উদ্দিন জানান, ” চলতি বছর আট বিঘা জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করায় সেগুলো প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাড়াই করা প্রয়োজন কিন্তু তেল সংকটের কারণে মেশিন বেশি সময় ধরে চালাতে পারছি না। প্রতিদিন শহরে বোতল করে তেল আনতে গিয়ে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ২ লিটার তেল পাই সেটা নিতেও অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয় ।

” সাইফুল ইসলাম নামের আরেক কৃষকের অভিজ্ঞতা আরও কষ্টের। তিনি জানান, ” নৌকা চালিয়ে নদী পাড়ি দিয়ে শহরে যেতে হয় তেল আনতে। যাতায়াতেই পুরো একটি দিন চলে যায়। তেলের দামও বেড়েছে, তার ওপর বহনের খরচ যোগ হয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এতে করে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।” শুধু সেচ বা মাড়াই নয়, চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতও এখন চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে।

নৌকা চালানোর জন্য জ্বালানি না থাকায় অনেকেই প্রয়োজনীয় কাজেও বাইরে যেতে পারছেন না। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, বাজার করা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত সবকিছুতেই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংকট। নৌকা চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ” আগে ঘাটে থেকে নিজেদের প্রয়োজনমতো তেল কিনতে পারতাম এখন সেই সুযোগ নাই শহরের পাম্পে নিয়ে তেল নিতে হয় । অনেক সময় তারা জারকিনে তেল দেয় না তখন বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয় ।

আমরা দূরে কোথাও যেতে পারি না তাই ঘাট থেকে দূরের চরের লোকদের যাতায়াতের খুব অসুবিধা তৈরি হয়েছে। চর নিয়ে কাজ করা গ্রীন ইয়ুথ এলায়েন্সের পরিচালক,মারুফ হাসান জানান, “চরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান,” কৃষকদের জ্বালানি তেলের বিষয়টি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না এটি জেলা প্রশাসনের করবে । এছাড়া সরকারি যে নীতিমালা আছে সে অনুযায়ী কৃষকরাও জ্বালানি তেল পাবে “।

Exit mobile version