নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় দফা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বুধবার (১ এপ্রিল) উপজেলার উৎরাইল এলাকায় এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে পাকা ও আধাপাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
সড়কের পাশের পানি নিষ্কাশনের জায়গা বা ‘নয়ন ঝুলি’ দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল। সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধার এবং জনদুর্ভোগ লাঘবেই পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এরআগে গত ১৬ মার্চ (সোমবার) সকালে একই এলাকায় প্রথম দফার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। সেই অভিযানে অন্তত ৩৫টি অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ (বুধবার) দ্বিতীয় দফার অভিযান শুরু হয়।
জানা যায়, এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ইট-টিনের দোকান ও পাকা ভবনের বর্ধিত অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানাসহ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। স্থানীয় উৎসুক জনতা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার বলেন, “সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ‘নয়ন ঝুলি’ বা নালা থাকে, কালের বিবর্তনে অবৈধ দখলদাররা সেগুলো দখল করে নিয়েছিল। এর ফলে বৃষ্টির পানি বা স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এই বাধা অপসারণের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ আমাদের কাছে রিকুইজিশন দেয়। সে অনুযায়ী আমরা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করেছি এবং আমি নিজেও পরিদর্শন করছি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে” জানান তিনি।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ আলনূর সালেহীন জানান, দুর্গাপুর উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “উৎরাইল বাজারে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৭০ থেকে ৭১টি অবৈধ স্থাপনা আমরা চিহ্নিত করেছি। বর্তমানে এসব স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই অন্যান্য স্থানে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।”
প্রশাসন ও সওজ বিভাগের এমন কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা মনে করছেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং সড়কের প্রশস্ততা ফিরে আসবে। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

