যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ ‘শাসন পরিবর্তন’ ঘটিয়েছে। তেহরানের সঙ্গে খুব শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তেহরান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

এদিকে ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার পর তেহরান ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর মধ্যেই ইরান কুয়েত ও সৌদি আরবে হামলা চালায়।

দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ সময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) জানায়, তাদের একটি অবস্থানে প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে এক শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন।

ইউএনআইএফআইএল জানায়, প্রজেক্টাইলটির উৎস জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এক মাসব্যাপী যুদ্ধে বহু ইরানি নেতা নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ইতোমধ্যেই শাসন পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব ‘অনেক বেশি যুক্তিসংগত।’

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা শাসন পরিবর্তন দেখেছি। আমরা এখন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। আগে যাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেনি, তারা এখন নেতৃত্বে। এটাকেই আমি শাসন পরিবর্তন বলব।’

আগামী সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ইরানে একটি চুক্তির সম্ভাবনা দেখছি। এটি শিগগিরই হতে পারে।’

এদিকে তেহরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং ট্রাম্পের সঙ্গে গড়ে ওঠা যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ই আলোচনায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে, এতে আমরা সন্তুষ্ট।’

তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘কূটনীতিতে ধোঁয়াশা তৈরিকে
কৌশল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।

সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনায় দেওয়া বিবৃতিতে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘শত্রু প্রকাশ্যে আলোচনা ও সংলাপের বার্তা দিচ্ছে, আর গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লোকজন মার্কিন সেনাদের স্থলে আসার অপেক্ষায় আছে, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চূড়ান্তভাবে শাস্তি দেওয়া যায়।

টানা কয়েক সপ্তাহের হামলায় ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে।

তেহরানের এক শিল্পী এএফপিকে বলেন, ‘শান্তিতে ঘুমানোর রাতকে আমি মিস করি।’ তিনি জানান, রাতের হামলা এতটাই তীব্র যে মনে হয় পুরো তেহরান কেঁপে উঠছে।

যুদ্ধটি এখন আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিয়েছে। তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।

কুয়েতে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় ইরানি হামলায় একজন ভারতীয় কর্মী নিহত হন। একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সোমবার জানায় দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের বাহিনী পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করেছে।

ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, বিদ্যুৎ শিল্পের স্থাপনায় হামলার পর রোববার রাজধানী, আশপাশের অঞ্চল ও আলবোরজ প্রদেশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তেহরান আলোচনা না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। পরে তিনি এ বিষয়ে সময়সীমা একাধিকবার বাড়ান।

ইরান জানিয়েছে, শত্রু দেশের জাহাজের জন্য তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ সমুদ্রপথে তেল পরিবহন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো।

যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড উঠেছে ১১৫ ডলারের ওপরে।

ইসরাইলে পার্লামেন্ট ২০২৬ সালের বাজেট অনুমোদন করেছে। এতে সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাজেট ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়িয়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারেরও ওপরে করা হয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে। এই সংকট নিয়ে আলোচনায় ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন।

ট্রাম্প বোরবার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা বলেছেন। তবে তেহরান এসব দাবি অস্বীকার করেছে।

দার বলেন, সফররত মন্ত্রীরা কীভাবে ‘যুদ্ধের দ্রুত ও স্থায়ী অবসান ঘটানো যায়’ তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই আলোচনায় সহায়তার জন্য পাকিস্তানের ওপর আস্থা রেখেছে। এ বিষয়ে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ অন্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তারাও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।

কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে। যুদ্ধ শেষ করতে ১৫ দফা প্রস্তাব দেওয়ার পরও এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেরিন ও নাবিক বহনকারী উভচর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহের স্থল অভিযান পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে অভিযানের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখনো কোনো মোতায়েনের অনুমোদন দেননি ট্রাম্প।

Share.

Comments are closed.

মোঃ আব্দুল আওয়াল হিমেল
প্রকাশক ও সম্পাদক 
দ্যা মেইল বিডি ডট কম
মোবাইল: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
ইমেইল: themailbdnews@gmail.com
ঠিকানা: ১০২/ক, রোড নং-০৪, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭

নিউজরুম: +৮৮০ ১৩১৪-৫২৪৭৪৯
জরুরী প্রয়োজন অথবা টেকনিক্যাল সমস্যা: +৮৮০ ১৮৩৩-৩৭৫১৩৩

© ২০২৬ Themailbd.com. Designed by themailbd.com.
Exit mobile version