নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদকে আর অতীতের মতো কার্যত ‘রাবার স্ট্যাম্পে’ পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বর্তমান জাতীয় সংসদের উপ-স্পিকার (ডেপুটি স্পিকার) ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দীর্ঘ সময় পর দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা পুনরুদ্ধারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বর্তমান সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাবেক স্পিকার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে উপ-স্পিকার দেশের অতীত সংসদীয় অবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অতীতের কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এবং সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি ছিল, তার ফলশ্রুতিতেই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমানে সেই অচলায়তন ভেঙে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জোর দিয়ে বলেন, জনগণের বর্তমান প্রত্যাশা হলো একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সংসদ, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের সক্রিয় এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ থাকবে। সংসদকে কার্যকর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি (Rules of Procedure) অনুযায়ী তারা তাদের স্বাধীন মতামত উপস্থাপন করবেন এবং সংসদের সার্বিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। বর্তমান বাস্তবতায় সংসদকে আবারও জনগণের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান কায়সার কামাল। তিনি স্মরণ করেন যে, দেশের সংসদীয় চর্চায় জমির উদ্দিন সরকারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অতীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
উপ-স্পিকার হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংসদ পরিচালনা নিশ্চিত করা হবে। এ সংসদে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের নিজস্ব মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ থাকবে বলে তিনি নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

