নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ত্রাণ বিতরণে দলীয় প্রভাব এড়িয়ে স্থানীয় সুধীজন ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ঈদ উপহার ও মানবিক সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আওতায় দুর্গাপুর উপজেলার ২৫০ জন অসহায়, দুঃস্থ ও নিম্নআয়ের পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রায় চারশো পরিবারের মাঝে শাড়ী, থ্রিপিস এবং হাজ্বী রুমাল অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে বিতরণ করা হয়।
বরাবরের মতো দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে এবার ভিন্ন পথে হাঁটেন ডেপুটি স্পিকার। দুর্গাপুর উপজেলায় বিতরণের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পরই তিনি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিতরণ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। এ কমিটিতে কোনো দলীয় নেতাকর্মীকে রাখা হয়নি।
পরিবর্তে বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়। প্রকৃত অধিকারীদের হাতে যেন সহায়তা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীমহল। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এমন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ উপহার বিতরণের ঘটনায় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উপহার বিতরণ শেষে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার এ উদ্যোগের পেছনের কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি নির্বাচনের আগে আমার এলাকার মানুষের কাছে কথা দিয়েছিলাম- আমি নিজে কোনো দুর্নীতি করবো না, আর কাউকে দুর্নীতি করতেও দিবো না। দুঃস্থদের জন্য সরকারিভাবে যা বরাদ্দ আসবে, সেগুলো শতভাগ সততা ও নিষ্ঠার সাথে বিতরণ করবো। আজকের এই উদ্যোগ সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব। আসুন, আমরা সকলে মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার এমন নতুন ধারা দুর্গাপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


