নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মোফাজ্জল হোসেন (২৮) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত যুবক নাম মোফাজ্জল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোছাউড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তিনি রাজধলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে, মোফাজ্জলের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী ও এক শিশুপুত্র রেখে গেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ (সোমবার) রাত ১০টায় নিজ বাড়িতে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
তরুণ এই স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তারা গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর ইউনিয়নের ছোছাউড়া মডার্ন আইডিয়াল স্কুলসংলগ্ন স্টেশন সড়কে মর্মান্তি দুর্ঘটনা ঘটে। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া ইটবোঝাই ট্রলি মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সজুদুল হক (৫৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন এবং মোফাজ্জল হোসেন ও আনাস (১২) নামের এক শিশু গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে মোফাজ্জল হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনায় মোফাজ্জলের মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। টানা তিন দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আজ (সোমবার) সকালে তিনি মারা যান।


