নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা জেলার হাওর অধ্যুষিত খালিয়াজুরী উপজেলায় বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজ সফলভাবে শেষ হলেও বরাদ্দের টাকা না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যরা। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বরাদ্দের মাত্র ছয় থেকে সাত শতাংশ অর্থ ছাড় করায় আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে শ্রমিক ও পাওনাদারদের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। ব্যক্তিগত তহবিল ও ঋণ করে কাজ শেষ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অর্থ ছাড়ে ‘ধীরগতি’র কারণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। ১৪৩টি পিআইসি’র প্রায় ৯১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বাঁধের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বোরো জমিতে দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পাউবোর কারিগরি সহায়তায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই উপজেলার সকল প্রকল্পের মূল কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শুরুর পর থেকে অন্তত চার কিস্তিতে টাকা পরিশোধের কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র এক কিস্তির (মোট বরাদ্দের মাত্র ছয়-সতা শতাংশ) অর্থ ছাড় করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় মাস পার হতে চললেও পরবর্তী কিস্তির টাকা না পাওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন পিআইসি সভাপতিরা।
খালিয়াজুরী সদরের দুই নম্বর পোল্ডারের পিআইসি সভাপতি মো. নাজমুল হক আরিফ চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমার প্রকল্পের বরাদ্দ ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। শতভাগ কাজ শেষ করেছি, কিন্তু হাতে পেয়েছি মাত্র ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ঈদের আগে টাকা না পেলে শ্রমিক ও পাওনাদারদের পাওনা মেটাব কীভাবে? আমরা এখন পাওনাদারদের ভয়ে আছি। তাছাড়াও গত বছরের টাকা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। সব মিলিয়ে আমরা চরম হতাশার মধ্যেই আছি।”
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও গাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন আক্ষেপ করে বলেন, “শ্রমিক ও পিআইসি সদস্যদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। ঈদ সামনে রেখে এই অর্থসংকট তাদের পরিবারে বিষাদ ডেকে আনবে।”
অর্থ ছাড়ের বিষয়ে নেত্রকোনা পাউবোর খালিয়াজুরীর দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বরাদ্দের কিছু অর্থ কেন্দ্র থেকে ছাড় হয়েছে। তবে সেই অর্থ ঈদের পর সুবিধাজনক সময়ে সংশ্লিষ্ট পিআইসির ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাজ প্রায় শেষ, তবে কিছু কিছু বাঁধে এখনও ড্রেসিং ও কার্পেটিং বাকি রয়েছে। তা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।”
অন্যদিকে, খালিয়াজুরীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাবিটা স্কিম বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. নাদির হোসেন শামীম জানান, ফসল রক্ষার স্বার্থে বাঁধ সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং কাজ সফলভাবেই শেষ হয়েছে। তবে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদের আগে পাওনাদারদের ঋণ ও শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের চাপে থাকা পিআইসি সদস্যরা এখন দ্রুত পুরো বিল পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। অন্যথায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জন্য এক বড় আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


