নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শ্রমিক সুলতান মিয়াকে (৪২) কুপিয়ে হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা আটকৃত আসামিদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে র্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা মুক্তাকিম (২২), জুলহাস (৩০), ফরহাদ ওরফে বিল্টু (৩৩) এবং মিরাজ আলী (৬০)। তারা সবাই নিহত সুলতান মিয়ার প্রতিবেশী।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সুলতান মিয়ার সাথে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সুলতান মিয়া ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা থেকে ছুটিতে বাড়ি ফেরেন।
বাড়ি আসার খবর পেয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে (দা) সজ্জিত হয়ে সুলতান মিয়ার বসতবাড়ির পেছনে ওত পেতে থাকে। সুলতানকে একা পেয়ে তারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় বাবার চিৎকার শুনে ছেলে সাদিক (১৮) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতান মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সুলতান মিয়ার স্ত্রী শাহিদা বেগম (৩৫) বাদী হয়ে পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই আসামিরা গা ঢাকা দেয়।
ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ (সিপিএসসি)। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর, ১৪ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টায় র্যাব-১৪ এর আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার র্যাব-৯ (সিপিসি-১) এর সহায়তায় নবীনগর থানা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাব-১৪ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদেরকে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


