জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গণধর্ষণ) চাঞ্চল্যকর মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক ছিল।
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি হলো- জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্লা এলাকার আজিজুল হকের ছেলে ফারুক হোসেন, আলী আকবরের ছেলে মনছুর আলী এবং শফিকুল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন। অন্যদিকে, এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণী ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুল হকের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালে স্বামীর সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ। তারা জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের পাকুল্লা গ্রামে পৌঁছালে আসামিরা তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে স্বামীকে জোরপূর্বক একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তার সামনেই ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে তারা।
এমন নির্মম ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে জামালপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত পাঁচ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একই মামলায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


