জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে চাঞ্চল্যকর স্ত্রী হত্যার পর ঘরে আগুন জ্বালিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী হোসাইন মো. তাইফুর রহমানকে চার দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে জামালপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুল রহমান চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি ছিল। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রিশাদ রেজওয়ান বাবু বলেন, “এ মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করি। এডিশনাল পিপি এবং এপিপিসহ আদালতে শুনানি করার পর বিচারক চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।”
আসামি তাইফুর রহমান নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিলেও স্থানীয় আইনজীবী সমিতি তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট রিশাদ রেজওয়ান বাবু স্পষ্ট করে বলেন, “আসামি আমাদের জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য নন। তিনি কোনো আদালতে নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন- এমন কোনো তথ্যই আমাদের কাছে নেই। এটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা এবং এর সুষ্ঠু বিচারের জন্য জামালপুর জেলা আইনজীবী সমিতি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।”
গত ৬ মার্চ দিবাগত রাতে জামালপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হোসাইন মো. তাইফুর রহমান তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তানিয়াকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন। হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং আলামত পুরোপুরি নষ্ট করতে তিনি নিজ ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘরের ভেতর থেকে স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্ত স্বামী তাইফুর রহমানকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে।
বর্তমানে পুলিশ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে, রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ বেরিয়ে আসবে। এ ঘটনাটি জামালপুরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।


