নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনায় স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার জেরে কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া ওরফে শাহীনকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার দায়ে মো. রতন মিয়া (৫৬) নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে নেত্রকোনা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছা. মরিয়ম-মুন-মুঞ্জুরী চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
প্রতিবেদকের সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, নিহত বাবুল মিয়া নেত্রকোনা শহরের সাতপাই রেলক্রসিংয়ের পাশে বাসা ভাড়া নিয়ে কসমেটিকস এর ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী ঢাকায় বসবাস করতেন এবং একমাত্র ছেলে বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো। আসামির স্ত্রীর সাথে ভিকটিম বাবুল মিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে আসামি রতন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে খুনের পরিকল্পনা করেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত অনুমান সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার দিকে আসামি রতন মিয়া কৌশল করে ভিকটিমকে কলমাকান্দা থানাধীন কেলাটি ইউনিয়নের কাকুড়িয়া মাছিম দাসপাড়া মরাগাঙ্গের কাছে নিয়ে যান। সেখানে আসামির সাথে থাকা ধারালো দা দিয়ে ভিকটিমকে ঘাড়ে ও মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মরাগাঙ্গে কচুরিপানার নিচে পানিতে ফেলে রাখা হয়।
পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১২টার দিকে নিহতের চাচাতো ভাই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের বড় ভাই মো. শামীম মিয়াকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে মো. শামীম মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
পুলিশ আসামি রতন মিয়াকে গ্রেফতার করলে তিনি ম্যাজিস্ট্রেট এর সম্মুখে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেকে জড়িয়ে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
এ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে। সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে পেনাল কোড এর ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ এই সাজা প্রদান করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. আবুল হাসেম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. মো. আনিসুর রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রতন মিয়া নেত্রকোনা সদরের বর্শিকুড়া (ডাক্তার বাড়ী) এলাকার মৃত ডা. আব্দুর রহমানের ছেলে এবং তিনি নেত্রকোনা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চকপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। উচ্চ আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

