জামালপুর প্রতিনিধি: বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো: ওয়ারেছ আলী মামুন এমপি বলেছেন, নারীরা যদি শিক্ষিত এবং উপার্জনক্ষম হয়, তবে তারা নিজেরাই শক্তিশালী হবে এবং এর মাধ্যমেই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থা এ সভার আয়োজন করে।
নারী অধিকারের বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে এমপি ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, “আমরা সবসময় নারী অধিকারের কথা বলি, সংগ্রাম করি। কিন্তু বাস্তবতা অনুধাবন না করে শুধু নারী দিবসে বক্তৃতা দিলে তা এই বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। নারীদের সত্যি সত্যিই ক্ষমতায়ন করতে চাইলে এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে তাদেরকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।”
পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সক্ষমতার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে পরিবারে স্ত্রী উপার্জন করে এবং স্বামী বসে খায়, সে পরিবারে স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর ক্ষমতা বেশি। আবার ছেলের বউ যদি উপার্জন করে এবং সেই টাকায় সংসার চলে, তাহলে শাশুড়ি ছেলের চেয়ে ছেলের বউকে বেশি সম্মান ও মর্যাদা দেয়।”
তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনেক মা মেয়ে বিয়ে দেওয়ার পর এক পর্যায়ে অসহায় হয়ে পড়েন। ছেলে বিয়ে করার পর আশা করেন ছেলের বউ সেবা করবে, কিন্তু অনেক সময় তা হয় না। “কিন্তু যদি এই শাশুড়ির নামে ব্যাংকে টাকা বা জমি থাকে, তাহলে মেয়েও স্বামী রেখে মাঝে মাঝে এসে মায়ের সেবা করে, ছেলের বউও ছেলেকে রেখে শাশুড়ির সেবা করে। মানে মূল জায়গাটা হলো মহিলারা শিক্ষিত ও উপার্জনক্ষম হলে তারা শক্তিশালী হবে।”
শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বিএনপি নেতা মামুন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষার প্রসারে দশম শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে আজকে নারীরা কিছুটা অগ্রসর হয়েছে।
বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রসঙ্গে তিনি ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড সারা দেশের নারীদের মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু আমরা যদি মেয়েদের ক্ষমতায়নের কথা বলি, তাহলে আমি মনে করি যে ফ্যামিলি কার্ড যথেষ্ট না। প্রকৃতপক্ষে মেয়েদের শিক্ষার হার ও মান বাড়াতে হবে এবং তাদের উপার্জনক্ষম হতে হবে।”
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মঞ্জুর আলম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. স্বাগত সাহা, সনাক সদস্য তামান্না সালেহীন কবিতা, এবং মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


