তামজিদ হোসেন মজুমদার,ববি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের(ববি):
রসায়ন বিভাগের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ছবি গোপনে ধারণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(AI) মাধ্যমে বিকৃতি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২ এর নিচ তলায় আজ(৪ই মার্চ) মানববন্ধন করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, স্থায়ী বহিষ্কার এবং স্নাতক সনদ বাতিলের দাবি জানান সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রীরা পৃথক পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়,’আমাদের বিভাগের এক ছাত্র তার সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি দীর্ঘদিন যাবৎ তর ডিভাইসে ধারণ করে আসছেন। সম্প্রতি তার ডিভাইস জব্দ করে সেখানে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে।
এবং আমরা আশঙ্কা করছি সে নিষিদ্ধ কোনো নারী চক্রের সাথে জড়িত।’ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন,”এসকল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সনাতন ধর্মাবলম্বী এক নারী শিক্ষার্থী বলেন,”আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার সময় একসাথে অনেক কাজ করতে হয়৷ এজন্য অনেক সময় একসাথে থাকতে হয় ৷
আমাদের অনেক সিঙ্গেল এবং গ্রুপ ফটো তার ফোনে আছে। এক্ষেত্রে সে আমাদের আপত্তিকর ছবি তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার যথাযথ বিচার দাবি করছি।” রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো.মিরাজ বলেন,”গতকাল রাতে ইফতারের পরে নিজের একজন মেয়ে বন্ধুর অনুমতি ছাড়াই আপত্তি কিছু ছবি তুলেছে। মেয়েটি দেখে ওর ফোন চেক করে। এসময় ওর ফোনে আরো শত শত মেয়ের আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ওর নিজের ব্যাচের সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে চলে আসে এসময় তারা ওর ফোন চেক করে আপত্তিকর ছবি দেখে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে যায়।
পরে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর টিম, বিভাগের শিক্ষকদের খবর দেয়৷ তাদের উপস্থিতিতে রাতেই বিষয়টি নিয়ে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা মাকে জানায়। আজ সকালে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে,এসময় শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন করে।” অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ডিভাইসে গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেয়েরা ছবিগুলো দেখেছে। এসময় এক মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন,’বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী আমাদের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল আছে তাদেরকে বলবো তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। পাশাপাশি এ ছেলে যে ছবি তুলেছে সেগুলো বাইরে কোথাও দিয়েছে কিনা, অন্যকোনো চ্যানেলের সাথে যুক্ত কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। আমরা এখন পুলিশে মামলা দিবো এবং আইন অনুযায়ী আগাবো।’ এবিষয়ে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড.মো.মাসুদ পারভেজ বলেন,”অভিযুক্তের ডিভাইস চেক করা হচ্ছে, এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আমরা ডিভাইসের ছবি গুলো চেক করছি।”


