ইমন সরকার, ভালুকা (ময়মনসিংহ), প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শেষে মঙ্গলবার গাজীপুরে ফেরার পথে এক ব্যতিক্রমধর্মী ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজপথ। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর এলাকায় হঠাৎ থেমে যায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাড়িবহর কারণ, এক তরুণীর অদম্য আকুলতা। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দূর থেকে প্রিয় নেতার এক ঝলক দেখার অপূর্ণ বাসনা পূরণ করতে সাহসী পদক্ষেপ নেন ওই তরুণী। তিনি সরাসরি বাসের সামনে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার আকুতি জানান। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে স্বয়ং তারেক রহমান বাসের দরজা খুলে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। সেই মুহূর্তে তরুণীর কণ্ঠে শোনা যায় ভবিষ্যতের দৃঢ় প্রত্যয়ের ঘোষণা। তিনি বলেন, “মানুষের সেবা করে, রাজনীতি করে, নিজের ক্ষমতায় সংসদে গিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করে আসবো। আমার রক্তে রাজনীতি, আমি রাজনীতি ছাড়া থাকবো না। আমার জন্য দোয়া করবেন।”
তরুণীর আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ ও রাজনৈতিক দৃঢ়তা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। এরপর আসে মুহূর্তটির সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়। হাতে থাকা প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি ছবি বাড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করেন, এটা কি নেবেন? পরম মমতায় ছবিটি গ্রহণ করেন তারেক রহমান। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি তরুণীর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া ও ধন্যবাদ জানান। নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে ওই তরুণী আরও বলেন, “আমি সমাবেশে আপনাকে দেখেছি। কিন্তু দূর থেকে দেখে আমার মন ভরেনি। তাই আমি এখন সরাসরি দেখা করতে এসেছি।
আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল আপনার সঙ্গে দেখা করার।” একদিকে তারুণ্যের চোখে আগামীর স্বপ্ন, অন্যদিকে প্রিয় নেতার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা সব মিলিয়ে ভালুকার একটি সাধারণ বিকেল পরিণত হয় এক অসাধারণ রাজনৈতিক গল্পে। তৃণমূল পর্যায়ে নেতার প্রতি মানুষের এই প্রাণের টান রাজনীতির ইতিহাসে যোগ করলো এক নতুন মাত্রা। উল্লেখ্য, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলা ওই তরুণী হলেন সাফওয়ানা সিদ্দিক রেয়ান। তিনি ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মরহুম আব্দুল হেলিম মন্ডল (হলু)-এর নাতনি।
একই সঙ্গে তিনি ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসম্পাদক ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আলহাজ্ব আবু সাঈদ জুয়েলের ভাতিজি এবং হবিরবাড়ী জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এবি সিদ্দিক সোহেলের একমাত্র কন্যা। রেয়ান বর্তমানে স্থানীয় সাহেরা নায়েব ল্যাবরেটরী হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভালুকার রাজপথে ঘটে যাওয়া এই ক্ষণিকের ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয় বরং তা আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক স্বপ্ন ও নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থার এক শক্তিশালী প্রতিচ্ছবি।


