স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোরঃ
সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ আমলা বিরোধী লড়াইয়ের অগ্রণী সৈনিক, শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের মুক্তির সংগ্রামে আত্মদানকারী কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা শহীদ কমরেড শেখ আব্দুল হাই(কবি)-এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) শনিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় নড়াইলের চাকই-মরিচা বাজারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ কমরেড শেখ আব্দুল হাই(কবি)-এর মৃত্যুবার্ষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা প্রকাশ দত্ত, বিশেষ বক্তা ছিলেন কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস, নড়াইল জেলা সভাপতি আক্তার হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি নড়াইল জেলা সভাপতি কৃষকনেতা আহম্মত বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা এ্যাড. আহাদ আলী লস্কার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট অভয়নগর থানা কমিটির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবু, কৃষক সংগ্রাম সমিতি খুলনা জেলা যুগ্ম-সম্পাদক সুকৃতি বিশ্বাস, জাতীয় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা দিলিপ বিশ্বাস।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাকই-মরিচা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ মোল্ল্যা প্রখুন নেতৃবৃন্দ। সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী লড়াইয়ে অগ্রণী সৈনিক, শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের মুক্তির সংগ্রামে আত্মদানকারী কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা শহীদ কমরেড শেখ আব্দুল (কবি)-এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে প্রয়াতের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি কেন্দ্রীয়, যশোর জেলা, নড়াইল জেলা ও অভয়নগর থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে ১মিনিট শোক নিরবতা পালন ও শপথ পাঠ করেন।
সভাপতির আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরে কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাইফুল ইসলাম। সভায় সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা নাজমুল হুসাইন। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, নেতা শহীদ কমরেড শেখ আব্দুল হাই(কবি) একজন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা ছিলেন। আমরা আজ যে সময়ে প্রয়াত নেতার ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা করছি, এই সময়ে এই আত্মত্যাগী নেতার বড় প্রয়োজন ছিল। তিনি চেয়েছিলেন সমগ্র বিশ্বের শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের যানে দুশমন সাম্রাজ্যবাদ এবং আমাদের মতো নয়াঔপনিবেশিক আধা সামন্ততান্ত্রিক দেশে কৃষক তথা ব্যাপক জনগণের ঘাঁড়ে চেপে থাকা সামন্ত ও আমলা দালালপুঁজি বিরোধী গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থানের সাথে (বল প্রয়োগে) সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবী যুদ্ধের সার্থক সমন্বয় সাধনের পরিণতিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করে একটি শোষণহীন সমাজ তথা সমাজতন্ত্র ও কমিউনিস্ট সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি বলতেন এ পথই শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের একমাত্র মুক্তির পথ।
এই পথের একজন আমৃত্যু সৈনিক হিসেবে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। বন্ধুগণ, আজ সমগ্র পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্হার গভীর সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে প্রতিযোগীতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধারাবাহিকতায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় বিপদ বৃদ্ধি করে চলেছে। এমনি একটা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে দেশে সাম্রাজ্যবাদের এদেশীয় দালাল রাজনৈতিক দলগুলো প্রভু সাম্রাজ্যবাদের আশীর্বাদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কমরেড কবি বলতেন, এক সাম্রাজ্যবাদের পরিবর্তে আরেক সাম্রাজ্যবাদ নয়। শ্রমিক-কৃষক মেহনতি জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে।
