জলঢাকা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি সরকারি ইজারাকৃত পুকুরে অবৈধ পাকা স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের বাঁশদহ এলাকার সরকারি নাউয়ার পুকুরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাউয়ার পুকুর ও বালার পুকুর সরকারি জলমহাল হিসেবে ইজারা গ্রহণ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম উদ্দীন। তবে ইজারা গ্রহীতার বাইরে স্থানীয় ব্যক্তি বাহাদুর ইসলাম বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নাউয়ার পুকুরের একটি অংশে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পুকুরের উপর একটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করা হলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ইজারাকৃত নাউয়ার পুকুরে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। প্রশাসনের এ নির্দেশনার ফলে স্থাপনাটি দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি শনিবার রাতে পুনরায় মেঝে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাতে নির্মাণ কাজ কেন করা হচ্ছে, তা জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে বাহাদুর ইসলাম-এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
শিমুলবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নির্দেশনায় পৌর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি পুকুরের উপর নির্মিত স্থাপনার সীমানা পরিমাপ করেছেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশনা দেবেন, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি জলমহাল দখল ও পুকুরের ওপর স্থাপনা নির্মাণ পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা দ্রুত অবৈধ নির্মাণ বন্ধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি পুকুরের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসকের লিখিত নির্দেশনা পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
